Cadet College admission 2020 Bangla question
ক্যাডেট কলেজ ভর্তি ২০২০ বাংলা প্রশ্ন
পূর্ণমান: ৬০
১. সঠিক উত্তরটি লেখ:
(ক) মিনুর শত্রু নয় কারা?
(i) বোলতা
(ii) মিটসেফ
(iii) পিঁপড়া
(iv) কয়লা
(খ) পল্লিকবির কোন নামটি সঠিক?
(i) জসীমউদ্দিন
(ii) জসিম উদ্দিন
(iii) জসীমউদ্দীন
(iv) জসীমউদ্দীন
(গ) ‘জলে কুমির ডাঙায় বাঘ’ -এর সমার্থক বাগধারা কোনটি?
(i) শাঁখের করাত
(ii) ঢাকের কাঠি
(iii) আকাশ কুসুম
(iv) আদায় কাঁচকলায়
(ঘ) ‘সোনালী কাবিন’ কার লেখা?
(i) সৈয়দ শামসুল হক
(ii) আল মাহমুদ
(iii) কামিনী রায়
(iv) শামসুর রাহমান
(ঙ) “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।” চরণটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?
(i) জন্মভূমি
(ii) সুখ
(iii) বাঁচতে দাও
(iv) মানুষ জাতি
২. সংক্ষেপে উত্তর দাও:
(ক) মানুষের সেবায় আরও কাজ করার জন্য মাদার তেরেসা কেন মনে খুব তাগিদ অনুভব করেছিলেন?
(খ) “এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত”-এ উক্তিটিতে কী বুঝানো হয়েছে?
(গ) কী দেখে কিশোর সাবুর বুকে তোলপাড় শুরু হয়?
(ঘ) শেখ মুজিবকে ‘চিরশিশু’ বলা হয়েছে কেন?
(ঙ) ফেরেশতা কাদেরকে পরীক্ষা করতে এসেছিলেন?
৩. এক কথায় উত্তর দাও:
(ক) খিড়কি শব্দের অর্থ কী?
(খ) ‘পরীক্ষা’-এর সন্ধি বিচ্ছেদ কর।
(গ) ‘নূরলদীনের সারাজীবন’-কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
(ঘ) ‘ষোড়শ’-এর সন্ধি বিচ্ছেদ কী?
(ঙ) মেঘে বৃষ্টি হয়। কোন কারক?
(চ) ‘সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি’- চরণটি কার লেখা?
(ছ) ‘ন্যূন’-এর সন্ধি বিচ্ছেদ কর।
(জ) ষোল-এর পূরণবাচক শব্দ লেখ।
(ঝ) ‘ফাগুন মাসে সবুজ আগুন জ্বলে’- এখানে ‘সবুজ’ কোন বিশেষণ পদ?
(ঞ) ‘সোনার দেশের মাঠে মাঠে ফলে সোনাধান রাশি রাশি’-এখানে ‘রাশি রাশি’ কোন অর্থে দ্বিরুক্তি?
৪. বিরাম চিহ্ন বসাও:
আমি একখানি নোট লইয়া তাহাকে দিলাম বলিলাম রহমত তুমি দেশে তোমার মেয়ের কাছে ফিরিয়া যাও তোমাদের মিলনসুখে আমার মিনির কল্যাণ হউক
৫. এক কথায় প্রকাশ কর:
(ক) মাসের শেষ দিন।
(খ) শুকনো পাতার শব্দ।
(গ) হাতির ডাক।
(ঘ) জানার ইচ্ছা।
(ঙ) উপকার করতে ইচ্ছুক।
৬. ভাব-সম্প্রসারণ কর:
কুড়িয়ে পাওয়া একশ টাকার চেয়ে উপার্জিত এক টাকা বেশি মূল্যবান।
৭. তুমি কেন ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে চাও? কে, কীভাবে তোমাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে?
৮. সারমর্ম লেখ:
বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা-
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখ তাপে ব্যথিত চিতে নাই- বা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখ যেন করিতে পারি জয়।
সহায় মোর না যদি জুটে,
নিজের বল না যেন টুটে-
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা,
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা
তরিতে পারি শক্তি যেন রয়
আমার ভার লাঘব করি না-ই বা দিলে সান্ত্বনা,
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।
ক্যাডেট কলেজ ভর্তি ২০২০ বাংলা প্রশ্নের উত্তর মালা
১.
(ক) (iii) পিঁপড়া;
(খ) (iii) জসীমউদ্দীন;
(গ) (i) শাঁখের করাত;
(ঘ) (ii) আল মাহমুদ;
(ঙ) (iv) মানুষ জাতি।
২.
(ক) বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা মাদার তেরেসাকে খুব বিচলিত করেছিল। তাই মানুষের সেবায় আরও কাজ করার জন্য মনে খুব তাগিদ অনুভব করেছিলেন।
(খ) একই মায়ের দুধ পান করে যেমন সন্তান-সন্ততি বেড়ে ওঠে, তেমনি পৃথিবীর সব জাতি-ধর্ম-গোত্রের মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে জীবন- যাপন করে।
(গ) হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে শহরত্যাগী মানুষের অসহায়ত্ব ও দুঃখ-কষ্ট দেখে সাবুর মন বেদনায় ভরে ওঠে, ও হানাদারদের প্রতি তার ঘৃণা বাড়তে থাকে। তাই তাদের অত্যাচারের মোকাবেলা করার জন্য তার বুকে তোলপাড় শুরু হয়।
(ঘ) বঙ্গবন্ধু চিরকাল শিশুর মতো সহজ, সরল, অকৃত্রিম ও মমতাময়। প্রতিটি শিশুর অমলিন হাসিতেও তাঁর অকৃত্রিম হাসির উপস্থিতি। তাই তাঁকে ‘চিরশিশু’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
(ঙ) ইহুদি বংশে তিনজন লোক-যাদের একজনের সর্বাঙ্গ ধবল, একজনের মাথায় টাক এবং আরেকজনের দুই চোখ অন্ধ। আল্লাহর নির্দেশে তাদের পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা তাদের কাছে এসেছিলেন।
৩. (ক) বাড়ির পেছনের ছোট দরজা।
(খ) পরি+ ঈক্ষা।
(গ) নাটক।
(ঘ) ষট্ + দশ।
(ঙ) অপাদান কারক।
(চ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
(ছ) নি + উন্ + অ।
(জ) ষোড়শ।
(ঝ) রূপবাচক।
(ঞ) আধিক্য।
৪. আমি একখানি নোট লইয়া তাহাকে দিলাম। বলিলাম, “রহমত, তুমি দেশে তোমার মেয়ের কাছে ফিরিয়া যাও; তোমাদের মিলনসুখে আমার মিনির কল্যাণ হউক।”
৫. (ক) মাসান্ত।
গ) বৃহিত/বৃংহণ।
(খ) মর্মর।
(ঘ) জিজ্ঞাসা।
(ঙ) উপচিকীর্ষু।
৬.
মানুষ তার জীবনের প্রয়োজনেই অর্থ উপার্জন করে। জীবনে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য আর সুন্দরভাবে জীবন-যাপনের প্রয়োজনে মানুষ অর্থ ও সম্পদ উপার্জন করে। পরিশ্রমলব্ধ ধনই মানব মনে স্বর্গীয় সুখ এনে দিতে পারে। জীবন ধারণের জন্য অর্থের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন উপায় আছে। কিন্তু শ্রমলব্ধ ও সম্মানজনক জীবন-যাপনই মানবজীবনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এর জন্য বেশি প্রয়োজন সততা, মেধা, শ্রম ও প্রচেষ্টা। মানবজীবন বহতা নদীর মতো। চলার পথে জীবনে অনেক ঘটনাই ঘটে থাকে। কোনো কোনো ঘটনা মানুষের জীবনের বাঁক পরিবর্তন করে দেয়। কারো কারো ভাগ্যগুণে কিছু পরিমাণ অর্থ কুড়িয়ে কিংবা কারো দয়ার দানে মিলতে পারে। তবে পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত সামান্য অর্থ, কুড়িয়ে পাওয়া অঢেল অর্থের চাইতে সম্মানজনক। কারণ কুড়িয়ে পাওয়া অর্জিত সম্পদে নিজের কৃতিত্ব নেই। এটি সাময়িক সুখ দিতে পারে; কিন্তু স্থায়ী সুখ এর দ্বারা সম্ভব নয়। কুড়িয়ে পাওয়া ধন নিজের রুচি মাফিক ব্যবহার করা যায় না। কথায় আছে, পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। আর পরিশ্রমে ধন আনে, পুণ্যে আনে সুখ। মানবজীবন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত। সুতরাং কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ যত অঢেল হোক না কেন, ঐ অর্থের প্রতি মানুষ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে না। পক্ষান্তরে পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ সে তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক। সুতরাং, মানবজীবনের লক্ষ্য হবে, পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন, কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ-সম্পদ নয়। কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ হচ্ছে দয়া, দাক্ষিণ্য কিংবা করুণার। তাতে কোনো সম্মান কিংবা মর্যাদা নেই। সেই অর্থের পরিমাণ যতই বেশি হোক পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্থের কাছে তা মূল্যহীন ও নগণ্য।
৭.
ক্যাডেট কলেজ আমাদের দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই আমি ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে চাই। আমার এক আত্মীয় এক্স-ক্যাডেট মোবারক হোসেন আজাদ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন এভাবে। তিনি আমাকে ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে বলেছেন- “ক্যাডেট কলেজ রাজনীতি, হরতাল, ধর্মঘট থেকে মুক্ত। ক্যাডেট কলেজের শিক্ষকরা শিক্ষকতায় বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মিশন হলো ক্যাডেটরা যে কোনো নতুন ও আশেপাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে, যে কোনও মূল্যে সততা, বন্ধুত্বের সীমাহীন বন্ধন, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং শিক্ষার উদ্দেশ্যে যা কিছু করেন তা অর্জনের দক্ষতা গ্রহণে সক্ষম করে তোলে। একটি উচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রশাসনিক এবং শিক্ষক কর্মচারী, আধুনিক প্রযুক্তিগতভাবে সজ্জিত শ্রেণিকক্ষ এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধাগুলো তাদের জ্ঞান এবং শারীরিক উৎকর্ষতাকে উন্নত করতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। ক্যাডেট কলেজগুলোতে ক্যাডেটরা কেবল একাডেমিকই নয়- বিভিন্ন সামাজিক, সহ-পাঠ্যক্রমিক এবং অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমিক ক্রিয়াকলাপগুলো তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তোলে। শিক্ষার্থীরা এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন সুযোগ যেমন- স্পোর্টস এবং গেমস, পিটি এবং প্যারেড, রুটিন লাইফ ইত্যাদি পেয়ে থাকে। তাছাড়া, ক্যাডেট কলেজে শিক্ষার মাধ্যমটি ইংরেজি। তুমি ক্যাডেট কলেজে পড়লে সর্বদাই ইংরেজিতে কথা বলতে পারবে। এছাড়া তুমি আর্মিতে যেতে চাইলে সরাসরি আইএসএসবি-এ অংশগ্রহণ করতে পারবে। যা আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। সাংস্কৃতিক ও কারেন্ট এফেয়ার্স ডিসপ্লে প্রতিযোগিতা আমাকে আরো বেশি আপ্লুত করেছে। একজন শিক্ষার্থী এখানেই উপযুক্ত একাডেমিক পরিবেশ পায়।” তাঁর চমৎকার ও জ্ঞানগর্ভমূলক কথা শুনে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। আর এজন্যই আমি ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে চাই।
৮.
পৃথিবীতে মানবজীবন পুষ্পশয্যা নয়, বরং বাধা-বিপত্তি, দুঃখ-বেদনায় ভরপুর। তবু বাঁচতে হলে সব দুঃখ- যন্ত্রণাকে আপন শক্তি ও সাহসের দ্বারা জয় করতে হবে। কারো করুণা বা সাহায্য নয়- আত্মশক্তির সাহায্যেই বিপদের মোকাবিলা করতে হবে। তাই বিধাতার সাহায্য, সান্ত্বনা কবির কাম্য নয়; বরং দৃঢ় মনোবল নিয়ে এর মোকাবিলা করাই তাঁর কাম্য।
(উপকৃত হলে কিংবা কনফিউশান থাকলে দয়া করে কমেন্ট করবেন। ভুল ধরিয়ে দিতে পারলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ্।)
ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার বাংলা প্রশ্ন (২০০৮-২০২৫)
এসএসসি বাংলা ২য় পত্র সকল বোর্ড প্রশ্ন ও সমাধান (২০২০-২৫)
