HSC Uccharoner Niyom Board Question 2018-24
উচ্চারণের নিয়ম: এখানে ২০১৮-২০২৪ সালে আসা উচ্চারণের নিয়ম বোর্ড প্রশ্নের সমাধান গুছিয়ে দেওয়া হলো।
১. উচ্চারণ রীতি কাকে বলে? উদাহরণসহ বাংলা উচ্চারণের ৫টি নিয়ম লেখো। (য. বো. ১৯)
বাংলা উচ্চারণের ৫টি নিয়ম:
১. শব্দের আদ্য ‘অ’-এর পর ই-কার থাকলে ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়। যেমন: অভিধান (ওভিধান্), ছবি (ছোবি।
২. অন্ত্য ‘অ’-এর আগে অনুস্বার (ং) বা বিসর্গ (ঃ) থাকলে সেই ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়। যেমন: অংশ (অঙ্ শো), দুঃখ (দুক্ খো)।
৩. আদ্য ‘অ’-এর পর ‘ক্ষ’ থাকলে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’-এর মতো হয়। যেমন: দক্ষ (দোক্ খো), লক্ষণ (লোক্ খোন্)।
৪. শব্দের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে ‘ম’ ফলা যুক্ত হলে সেই ‘ম’ অনুচ্চারিত থাকে। যেমন: স্মরণ (শঁরোন্), শ্মশান (শঁশান্)।
৫. শব্দের শেষে যুক্তব্যঞ্জন থাকলে শেষের ‘অ’ সাধারণত ‘ও’ রূপে উচ্চারিত হয়।
যেমন: বক্ষ (বোক্ খো), শক্ত (শক্ তো)।
২. অ’ ধ্বনি উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ। (চ. বো. ২৪, ১৯, দি. বো. ২৪, রা. বো. ২৪, ২৩, ম. বো. ২৩, ঢা. বো. ২২, ১৯, সি. বো. ১৯, )
অ-ধ্বনি উচ্চারণের নিয়ম:
১. শব্দের আদ্য ‘অ’-এর পরে য-ফলাযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে ‘অ’-এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’-এর মতো হয় হয়। যেমন: গদ্য (গোদ্ দো), কল্যাণ (কোল্ লান্)/(কোল্ ল্যান্)
২. আদ্য ‘অ’-এর পর ‘ক্ষ’ থাকলে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়।
যেমন: দক্ষ (দোক্ খো), লক্ষণ (লোক্ খোন্)।
৩. মধ্য ‘অ’-এর আগে যদি ‘অ’ থাকে তবে সেই মধ্য ‘অ’-এর উচ্চারণ ও-এর মতো হয়ে থাকে। যেমন: যতন (জতোন্), কমল (কমোল]।
৪. মধ্য ‘অ’-এর আগে ‘আ’ থাকলে সেই মধ্য ‘অ’-এর উচ্চারণ ও-এর মতো হয়। যেমন: কানন (কানোন্), ভাষণ (ভাশোন্)।
৫. শব্দের শেষে যুক্তব্যঞ্জন থাকলে শেষের ‘অ’ সাধারণত ও-রূপে উচ্চারিত হয়। যেমন: বক্ষ (বোক্ খো), শক্ত (শক্তো)
৩. বাংলা শব্দে আদ্য ‘অ’-ধ্বনি উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখো। (ব. বো. ১৯,
আদ্য ‘অ’ উচ্চারণের ৫টি নিয়ম:
১. শব্দের আদ্য ‘অ’-এর পর ই-কার, ঈ-কার কিংবা উ-কার, উ-কার থাকলে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’ এর মতো হয়। যেমন: অভিধান (ওভিধান্), ছবি (ছোবি), মতি (মোতি)।
২. শব্দের আদ্য ‘অ’-এর পরে য-ফলাযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে সে ক্ষেত্রে ‘অ’-এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’ এর মতো হয় হয়। যেমন: গদ্য (গোদ্ দো), অত্যাচার (ওত্ তাচার্), কল্যাণ (কোল্ লান্)।
৩. আদ্য ‘অ’ এর পর ‘ক্ষ’ থাকলে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’-এর মতো হয়। যেমন: দক্ষ (দোক্ খো), লক্ষণ (লোক্ খোন্), রক্ষা (রোক্ খা)।
৪. শব্দের আদ্য ‘অ’-এর পর যদি ঋ-কার যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকে তবে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’-এর মতো হয় যেমন: মসৃন (মোসৃন্), কর্তৃকারক (কোর্ তৃকারোক্), বক্তৃতা (বোক্ তৃতা)।
৫. র-ফলা যুক্ত আদ্য ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’ কারের মতো হয়। যেমন: প্রথম (প্রোথোম্), গ্রহ (গ্রোহো), গ্রন্থ (গ্রোন্ থো।
৪. অন্ত্য ‘অ’ ধ্বনি উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখো। (কু. বো ১৯)
অন্ত্য ‘অ’ ধ্বনি উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম:
১. অন্ত্য ‘অ’-এর আগে অনুস্বার (ং) বা বিসর্গ (ঃ) থাকলে সেই ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়। যেমন: কংশ (কঙ্ শো), অংশ অঙ্ শো।
২. শব্দান্তে যুক্তব্যঞ্জন থাকলে শেষের ‘অ’ সাধারণত ‘ও’ রূপে উচ্চারিত হয়। যেমন: বক্ষ (বোক্ খো), শক্ত (শক্ তো)।
৩. ‘ত’ এবং ‘ইত’ প্রত্যয়ান্ত শব্দ বিশেষণ হলে সেই অন্ত ‘অ’ এর উচ্চারণ ‘ও’ কারান্ত হয়ে থাকে। যেমন: ধৃত (ধৃতো), বিবাহিত (বিবাহিতো)।
৪. অন্ত্য ‘অ’ এর পূর্বে র-ফলা বা ঋ-কার থাকলে সেই ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়। যেমন: বিকৃত (বিকৃতো), মৃত (মৃতো)।
৫. ক্রিয়া পদের অন্ত ‘অ’ সাধারণত ‘ও’ রূপে উচ্চারতি হয়। যেমন: যাবো (জাবো), করেছিল (কোরেছিলো)।
৪. উদাহরণসহ বাংলা ‘এ’ ধ্বনি উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম লেখো। (ব. বো. ২৪, ২২, য. বো. ২৪, সি. বো. ২৩, কু. বো. ২৩, দি. বো. ২২, ম. বো. ২২, রা. বো. ১৯, সকল বোর্ড ১৮,)
এ’ ধ্বনি উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম:
১. তৎসম শব্দের এ-এর উচ্চারণ সাধারণ অবিকৃত থাকে। যেমন: বেদনা (বেদোনা), দেবতা (দেবোতা)।
২. আদ্য এ-এর পরে ‘অ’ বা ‘আ’ থাকলে সেই ‘এ’ এর উচ্চারণ ‘অ্যা’ এর মতো হয়।যেমন: এক (অ্যাক্); তেমন (ত্যামোন্)।
৩. এ-কারযুক্ত ধাতুর সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যুক্তগ হলে সেই ‘এ’-এর উচ্চারণ অ্যা-রূপে হয়ে থাকে। যেমন: খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা)।
৪. শব্দের শেষের এ-এর উচ্চারণ সাধারণত অবিকৃত থাকে। যেমন: পথে, ঘাটে, হাটে।
৫. একাক্ষর সর্বনাম পদের ‘এ’ সাধারণত অবিকৃত এ-রূপে উচ্চাতির হয়। যেমন: সে, যে, কে, রে।
৫. উদাহরণসহ ব-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম লেখো। (কু. বো. ২৪, ২২, ম. বো. ২৪, য. বো. ২৩, ব. বো. ২৩, সি. বো. ২২, রা. বো. ২২, দি. বো. ১৯)
ব-ফলার উচ্চারণ:
ক. শব্দের প্রথমে ব-ফলা যুক্ত হলে উচ্চারণে শুধু সে বর্ণের উপর অতিরিক্ত ঝোঁক পড়ে, ব-ফলা উচ্চারিত হয় না। যেমন: ক্বচিৎ (কোচিৎ), দ্বিত্ব (দিত্ তো), শ্বাস (শাশ্), সজন (শজোন্), দ্বন্দ্ব (দন্ দো)।
খ. সন্ধিজাত শব্দে যুক্ত ব-ফলায় ব-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: দিগ্বিজয় (দিগ্ বিজয়্), দিগ্বলয় (দিগ্ বলয়্)।
গ. শব্দের মধ্যে বা শেষে ‘ব’ বা ‘ম’-এর সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: তিব্বত (তিব্ বত্), লম্ব (লম্ বো)।
ঘ. উৎ উপসর্গের সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ বহাল থাকে। যেমন উদ্বাস্তু (উদ্বাস্ তু), উদ্বেল (উদ্ বেল্)।
ঙ. শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে যুক্ত ব্যঞ্জনটির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন: বিশ্বাস (বিশ্ শাশ্), পক্ব (পক্ কো), অশ্ব (অশ্ শো), বিশ্ব (বিশ্ শো)।
৬. ‘য-ফলা’ উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ। (ঢা. বো. ২৪, য… বো. ২২, )
‘য-ফলা’ উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম:
ক. য-ফলা শব্দের শুরুতে থাকলে এবং পরের বর্ণে ‘আ-কার’ থাকলে য-ফলার উচ্চারণ ‘অ্যা’ এর মতো হয়। যেমন: ব্যথা (ব্যাথা)।
খ. য-ফলা শব্দের শুরুতে থাকলে এবং পরের বর্ণে ‘ই/ঈ-কার’ থাকলে য-ফলার উচ্চারণ ’এ-কার’ হয়। যেমন: ব্যতীত (বেতিতো), ব্যতিক্রম (বেতিক্ ক্রোম্)।
গ. য-ফলার সঙ্গে আ-কার যুক্ত থাকলে দুইয়ে মিলে ‘অ্যা’ এর মতো হয়। যেমন: ত্যাগ (ত্যাগ্), ধ্যান (ধ্যান্)।
ঘ. শব্দের মাঝখানে বা শেষে য-ফলা যে বর্ণের সঙ্গে যুক্ত থাকে ঐ বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়, যেমন: উদ্যম (উদ্দম্), গদ্য (গোদ্ দো)।
ঙ. কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে থাকা ‘য-ফলা’র কোনো উচ্চারণ হয় না, যেমন: সন্ধ্যা (শোন্ ধা), স্বাস্থ্য (শাস্ থো), অর্ঘ্য (অর্ ঘো)।
৭. ‘ম-ফলা’ উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখো। (দি বো. ২৩, ঢা. বো. ২৩)
‘ম-ফলা’ উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম:
১. শব্দের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে ‘ম’ ফলা যুক্ত হলে সাধারণত সেই ‘ম’ অনুচ্চারিত থাকে। যেমন: স্মরণ (শঁরোন্), শ্মশান (শশান্)।
২. শব্দের মধ্যে বা শেষে ‘ম’ ফলা যুক্ত হলে সংযুক্ত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়ে থাকে। যেমন: ছদ্ম (ছদ্ দোঁ), পদ্ম (পদ্ দোঁ), রশ্মি (রোশ্ শিঁ)।
৩. ণ, ন, ল, গ, ঙ, ট, ম – এ বর্ণগুলোর সঙ্গে ম-ফলা যুক্ত হলে ‘ম’-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: যুগ্ম (জুগ্ মো), জন্ম (জন্ মো), গুল্ম (গুল্ মো)।
৪. যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত ‘ম’ ফলার উচ্চারণ হয় না। যেমন: সূক্ষ্ম > শুক্খোঁ, লক্ষ্মণ (লোক্ খোঁন্), যক্ষ্মা (জক্ খাঁ)।
৫. ‘ম’ ফলা যুক্ত কতিপয় সংস্কৃত শব্দের উচ্চারণ সংস্কৃত রীতি অনুযায়ী হয়ে থাকে। যেমন: কুষ্মাণ্ড (কুশ্ মান্ ডো), সুস্মিতা (শুশ্ মিতা)।
(উপকৃত হলে কিংবা কনফিউশান থাকলে দয়া করে কমেন্ট করবেন। ভুল ধরিয়ে দিতে পারলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ্।)
