Alim 2022 Madrasah Board Bangla 2nd Paper Question & Solution
আলিম পরীক্ষা ২০২২ বাংলা ২য় পত্র বোর্ড প্রশ্নের সমাধান টেক্সট আকারে আকারে সুন্দরভাবে গুছিয়ে দেয়া হলো।
মাদ্রাসা বোর্ড ২০২২ আলিম পরীক্ষার বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন (ব্যাকরণ অংশ)
বিষয় কোড: ২৩৭
সময়-২ ঘণ্টা পূর্ণমান-৫০
১। ক) বাংলা ভাষায় ‘ম’ ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ। ৫
‘ম’ ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম
১. শব্দের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে ‘ম’ ফলা যুক্ত হলে সাধারণত সেই ‘ম’ অনুচ্চারিত থাকে। যেমন: স্মরণ (শঁরোন্), শ্মশান (শশান্)।
২. শব্দের মধ্যে বা শেষে ‘ম’ ফলা যুক্ত হলে সংযুক্ত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়ে থাকে। যেমন: ছদ্ম (ছদ্ দোঁ), পদ্ম (পদ্ দোঁ), রশ্মি (রোশ্ শিঁ)।
৩. ণ, ন, ল, গ, ঙ, ট, ম – এ বর্ণগুলোর সঙ্গে ম-ফলা যুক্ত হলে ‘ম’-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: যুগ্ম (জুগ্ মো), জন্ম (জন্ মো), গুল্ম (গুল্ মো)।
৪. যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত ‘ম’ ফলার উচ্চারণ হয় না। যেমন: সূক্ষ্ম > শুক্খোঁ, লক্ষ্মণ (লোক্ খোঁন্), যক্ষ্মা (জক্ খাঁ)।
৫. ‘ম’ ফলা যুক্ত কতিপয় সংস্কৃত শব্দের উচ্চারণ সংস্কৃত রীতি অনুযায়ী হয়ে থাকে। যেমন: কুষ্মাণ্ড (কুশ্ মান্ ডো), সুস্মিতা (শুশ্ মিতা)।
অথবা, খ) যেকোনো পাঁচটি শব্দের বানান শুদ্ধ করে লেখ:
অশুদ্ধ বানান=>শুদ্ধ বানান
অহরাত্রি=>অহোরাত্র
শারিরিক=>শারীরিক
মনিষি=>মনীষী
ইতিমধ্যে=>ইতোমধ্যে
দৈন্যতা=>দৈন্য/দীনতা
প্রাণীবিদ্যা=>প্রাণিবিদ্যা
প্রতিযোগীতা=>প্রতিযোগিতা
বিভিষিকা=>বিভীষিকা।
২। ক) বিশেষ্য পদ কাকে বলে? উদাহরণসহ বিশেষ্য পদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর।
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন- নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য
এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
১. নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম:সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
২. জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
৩. বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি
অথবা, খ) ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর (যেকোনো পাঁচটি):
প্রদত্ত শব্দ = ব্যাসবাক্য = সমাসের নাম
রাজপুত্র=রাজার পুত্র=ষষ্ঠী তৎপুরুষ
শিক্ষামন্ত্রী=শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী=মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
খেচর=আকাশে/খ-তে চরে যে=উপপদ তৎপুরুষ
সাত-সতেরো=সাত ও সতেরো=দ্বন্দ্ব সমাস
আজীবন=জীবন পর্যন্ত
বহুব্রীহি=বহু ব্রীহি আছে যার=বহুব্রীহি
বাতুলতা=বাহু লতার ন্যায়=উপমিত কর্মধারয়
চৌপদী=চার পদের সমাহার=দ্বিগু সমাস
৩। ক) একটি সার্থক বাক্যের কী কী গুণ বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে? উদাহরণসহ আলোচনা কর। ৫
বাক্য:
যে পদ বা পদ সমষ্টি দ্বারা বক্তার পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ পায় তাকে বাক্য বলে। যেমন: আমি একাদশ শ্রেণিতে পড়ি।
বাক্যের গুণ:
অর্থ স্পষ্ট হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি, সম্পূর্ণ-মনোভাব প্রকাশ এবং অর্থগত ও ভাবগত মেল বন্ধন হলো বাক্যের গুণ।
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। যথা-
ক. আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের পর তার পরবর্তী পদ শোনার যে আগ্রহ তাকেই আকাঙ্ক্ষা বলে। একটি সার্থক বাক্যে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হয়। কোনো বাক্যে এই আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থাকলে তা বাক্য হিসেবে সার্থক হয় না। যেমন: ‘ঢাকা বাংলাদেশের’ বললে শ্রোতার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় না কিন্তু ‘ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী’ বললে শ্রোতার আর আকাঙ্ক্ষা থাকে না। সুতরাং ‘ঢাকা বাংলাদেশের’ বাক্য নয়, ‘ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী’ একটি সার্থক বাক্য।
খ. আসত্তি:
বাক্যের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসকেই আসত্তি বলে। বাক্যস্থিত পদসমূহের বিন্যাস সুশৃঙ্খল বা যথাযথ না হলে তাকে বাক্য বলা যায় না। যেমন: ‘সাদা বকের দল আকাশে উড়ছে।’ উল্লিখিত বাক্যে পদসমূহের বিন্যাস সুশৃঙ্খল বা যথাযথ হওয়ায় এটি একটি সার্থক বাক্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই পদসমষ্টিকে যদি সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যাস না করে বলা হয়, ‘সাদা উড়ছে দল বকের আকাশে’ তাহলে আসত্তি গুণের অভাবে বাক্যটি সার্থক হবে না। তাই একটি সার্থক বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে অবশ্যই আসত্তি গুণটি থাকতে হবে।
গ. যোগ্যতা:
বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর অর্থ ও ভাবগত মিল বা সামঞ্জস্যকে যোগ্যতা বলে। একটি সার্থক বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে অর্থ ও ভাবগত অন্বয় রক্ষিত না হলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়। যেমন: ‘গরুগুলো আকাশে উড়ছে।’ বাক্যটিতে আকাঙ্ক্ষা এবং আসত্তি গুণ রক্ষিত হলেও এটি সার্থক বাক্য নয়; কেননা, এতে ব্যবহৃত পদগুলোর সঙ্গে ভাবের কোনো সাদৃশ্য নেই। কিন্তু এর পরিবর্তে যদি বলা হয়, ‘পাখিগুলো আকাশে উড়ছে।’ তাহলে এটি যোগ্যতাসম্পন্ন একটি সার্থক বাক্য হয়ে উঠবে।
অথবা, খ) যেকোনো পাঁচটি বাক্য শুদ্ধ করে লেখ:
অশুদ্ধ বাক্য =>শুদ্ধ বাক্য
i) কারো মাঘ মাস, কারো সর্বনাশ।
=>কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ।
ii) কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
=>কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।’
iii) অন্যায়ের ফল দুর্নিবার্য।
=>অন্যায়ের ফল অনিবার্য।
iv) ছেলেটি ভয়ংকর মেধাবী।
=>ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
v) আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছি।
=>আমি এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি।
vi) বৃক্ষটি স্বমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
=>বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
vii) এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
=>এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।
viii) ষড়ঋতুর সমাহারের দেশ বাংলাদেশ।
=>ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ।
৪। ক) যেকোনো পাঁচটি শব্দের পারিভাষিক রূপ লেখ: ৫
প্রদত্ত শব্দ=>পারিভাষিক রূপ
Agent=>প্রতিনিধি / দূত
Boycott=>বর্জন
Dialect=>উপভাষা
Income Tax=>আয়কর
Manifesto=>ঘোষণাপত্র
Quack=>হাতুড়ে ডাক্তার
Sabotage=>নাশকতা
Hygiene=>স্বাস্থ্যবিধি / স্বাস্থ্যসংরক্ষণ
অথবা, খ) নিচের অনুচ্ছেদটি বাংলায় অনুবাদ কর :
Bangladesh is the land of our birth. The blue sky and the air of this land are very dear to us. It is our duty to build up our dear Bangladesh. It is our sacred duty. If we do our respective duties, only then our country will make progress.
বঙ্গানুবাদ:
বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এ দেশের নীল আকাশ ও বাতাস আমাদের খুব প্রিয়। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। এটি আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের নিজের দায়িত্ব পালন করি, তবেই আমাদের দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।
৫। ক) ‘সড়ক দুর্ঘটনা ও তার প্রতিকার’ বিষয়ে তোমার মতামত জানিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য একটি পত্র লেখ। ১০
অথবা, খ) তোমার প্রতিষ্ঠানে ‘বিজয় দিবস’ উদ্যাপনের বর্ণনা দিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
৬। ক) সারাংশ লেখ’: ১০
কিসে হয় মর্যাদা? দামি কাপড়, গাড়ি-ঘোড়া, না ঠাকুর দাদার উপাধিতে?
না, মর্যাদা এসব জিনিসে নেই। আমি দেখতে চাই, তোমার ভিতর-বাহির, অন্তর। আমি জানতে চাই, তুমি চরিত্রবান কি না। তোমায় দেখলে দাস-দাসি দৌড়ে আসে, প্রজারা তোমায় দেখে সন্ত্রস্ত হয়। তুমি মানুষের ঘাড়ে চড়ে হাওয়া খাও। মানুষকে দিয়ে জুতা খোলাও। তুমি দিনের আলোতে মানুষের টাকা আত্মসাৎ কর। বাপ-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি তোমায় আদর করেন, আমি তোমায় অবজ্ঞায় বলব- যাও।
অথবা, খ) ভাবসম্প্রসারণ কর:
স্বদেশের উপকারে নেই যার মন
কে বলে মানুষ তারে? পশু সেই জন।
৭। ক) ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও সতর্কতা’ বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর। ১০
অথবা, খ) ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’ শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
(উপকৃত হলে কিংবা কনফিউশান থাকলে দয়া করে কমেন্ট করবেন। ভুল ধরিয়ে দিতে পারলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ্।)
