HSC Uposhorger Shonga, Srenibibag o Proyojoniota
উপসর্গ: এখানে উপসর্গের সংজ্ঞা, শ্রেণিবিভাগ, প্রয়োজনীয়তা এবং উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হলো।
✔”উপসর্গের স্বাধীন কোনো অর্থ নেই, কিন্তু অর্থ-দ্যোতকতা আছে।”-ব্যাখ্যা করো।***** (কুমিল্লা ২৪)
অথবা,”উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে” আলোচনা কর।***** (বরিশাল ২৪, ২৩, ১৭, যশোর ২৪, ২৩, ১৯, ১৭, কুমিল্লা ২৩, ১৭, সিলেট ১৯, দিনাজপুর ১৭)
উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে।
উপসর্গের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, ‘এর?J6k অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।’ প্রত্যেকটি উপসর্গ মূলত এক ধরনের শব্দাংশ। এরা কোথাও পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয় না, কিংবা এদের নিজস্ব কোনো অর্থও নেই। ধাতু বা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে এরা মূল শব্দ বা ধাতুর অর্থের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংকোচন, সম্প্রসারণ বা তার পূর্ণতা সাধন করে। যেমন: ‘কার’ একটি শব্দ। এর সঙ্গে বিভিন্ন উপসর্গ যুক্ত হয়ে নানা নতুন শব্দ গঠিত হতে পারে-
উপসর্গ=মূল শব্দ=উপসর্গযোগে গঠিত সাধিত শব্দ
প্র+কার=>প্রকা
উপ+কার=উপকার
অধি+কার=অধিকার
অপ+কার=অপকার
বি+কার=বিকার
উপরের সাধিত শব্দগুলো থেকে প্র, উপ, অধি, অপ, বি উপসর্গগুলো পৃথক করলে তাদের আলাদা কোনো অর্থ পাওয়া যায় না। কিন্তু অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওই শব্দগুলোকে নানা অর্থবৈচিত্র্য দান করেছে। এভাবেই নিজস্ব অর্থহীন উপসর্গ অন্য কোনো শব্দ বা ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করতে পারে বলেই বলা হয়- উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই; কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।
✔উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর। *****(ময়মনসিংহ ২৪, রাজশাহী ২৪, ঢাকা ২৩, দিনাজপুর ২৩)
অথবা, উপসর্গ কাকে বলে? বাংলা শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা বা গুরুত্ব আলোচনা করো। (সিলেট ২৩)
উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে।
উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা/ভূমিকা/গুরুত্ব:
নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শুধু তাই নয়- শব্দার্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ, সংকোচন কিংবা পূর্ণতা সাধনে উপসর্গ ভূমিকা রাখে। উপসর্গগুলোর অর্থবাচকতা না থাকলেও অন্য শব্দের আগে বসে এগুলো অর্থের দ্যোতনা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন: ‘দিন’ শব্দের আগে ‘সু’ উপসর্গযোগে ‘সুদিন’ শব্দটি গঠিত হয়, যার অর্থ- ভালো দিন। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে। কাজ শব্দের আগে ‘অ’ উপসর্গযোগে ‘অকাজ’ শব্দটি গঠিত হয়, যার অর্থ- অনুচিত কাজ। এখানে অর্থের পরিবর্তন হয়েছে। আবার ‘পূর্ণ’ শব্দের আগে ‘পরি’ উপসর্গযোগে ‘পরিপূর্ণ’গঠিত হয়, যার অর্থ- সামগ্রিকভাবে ভরপুর। এখানে শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ হয়েছে। এভাবে সংস্কৃত, বাংলা ও বিদেশি উপসর্গের দ্বারা বাংলা ভাষায় নিত্য নতুন শব্দ গঠিত হচ্ছে। এ সকল দিক বিবেচনায় বলা যায়, উপসর্গের ব্যবহারে বাংলা শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে।
✔উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর। *****(ঢাকা ২৪, ময়মনসিংহ ২৩)
উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে। যেমন: অ+কাজ=অকাজ, অধি+কার=অধিকার, সম+পূর্ণ =সম্পূর্ণ।
উপসর্গ তিন প্রকার। যথা-
১. সংস্কৃত উপসর্গ:
সংস্কৃত থেকে আগত উপসর্গগুলো বাংলা ভাষায় অপরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। মোট ২০টি সংস্কৃত উপসর্গ রয়েছে।
যথা-
প্র, পরা, অপ, সম,
নি, অনু, অব, নির,
দুর, বি, অধি, সু,
উৎ, পরি, প্রতি, অতি,
অপি, অভি, উপ, আ।
২. বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা-
অ, অঘা, অজ, আনা,
আ, আড়, আন, আব,
ইতি, উন, কদ, কু, নি,
পাতি, বি, ভর, রাম,
স, সা. সু, হা।
৩. বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি ভাষার কতগুলো উপসর্গ বাংলা ভাষায় ব্যবহূত হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এগুলো বাংলা ভাষার সঙ্গে পুরোপুরি মিশে গেছে।
ফারসি:
বর, ফি,কম বদ, না,
ব, নিম, দর, কার।
ইংরেজি:
হেড, সাব, হাফ, ফুল।
আরবি:
আম, খাস, লা, গর,
হিনিদ-উর্দু:
হর (প্রত্যেক অর্থে)
✔উপসর্গের সংজ্ঞা দাও। বিদেশি উপসর্গ ব্যবহার করে পাঁচটি শব্দ গঠন কর।* (দিনাজপুর ২৪)
উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে। যেমন: অ+কাজ = অকাজ, সু+দিন= সুদিন, দূর+দিন= দুর্দিন ইত্যাদি।
বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
উপসর্গ+মূলশব্দ+উপসর্গ সাধিত শব্দ
আম+জনতা=আমজনতা
গর+হাজির=গরহাজির
হেড+মাস্টার=হেডমাস্টার
বে+দখল=বেদখল
হর+রোজ=হররোজ
✔উপসর্গ কাকে বলে? ‘অনু’ ও ‘পনি’ উপসর্গযোগে দুটি করে শব্দ গঠন কর।* (চট্টগ্রাম ২৪)
উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে। যেমন: অ+কাজ = অকাজ, সু+দিন= সুদিন, দূর+দিন= দুর্দিন ইত্যাদি।
‘অনু’ ও ‘পরি’ উপসর্গযোগে দুটি করে শব্দ গঠন গঠিত শব্দ:
উপসর্গ+মূলশব্দ+উপসর্গ সাধিত শব্দ
অনু+গমন=অনুগমন
অনু+রূপ=অনুরূপ
পরি+ত্যাগ=পরিত্যাগ
পরি+পন্থী =পরিপন্থী
✔উপসর্গ কাকে বলে? প্র, অপ, আ, সম, নি- উপসর্গগুলোর প্রত্যেকটির দ্বারা একটি করে শব্দ গঠন করো। *(রাজশাহী ২৩)
উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে। যেমন: অ+কাজ = অকাজ, সু+দিন= সুদিন, দূর+দিন= দুর্দিন ইত্যাদি।
প্র, অপ, আ, সম, নি উপসর্গগুলোযোগে গঠিত শব্দ:
উপসর্গ+মূলশব্দ+উপসর্গ সাধিত শব্দ
প্র+ভাত=প্রভাত
অপ+কর্ম=অপকর্ম
আ+হার=আহার
সম+পূর্ণ=সম্পূর্ণ
নি+খাদ=নিখাদ
স্টার (*) চিহ্নগুলো কমন পড়ার মাত্রা নির্দেশ করছে।
(উপকৃত হলে কিংবা কনফিউশান থাকলে দয়া করে কমেন্ট করবেন। ভুল ধরিয়ে দিতে পারলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ্।)
