এইচএসসি ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি বর্ণনামূলক প্রশ্ন ২০১৬-২০২৪

HSC Byakoronik Shobdosreni Bornononamulok Board Question 2016-2024

ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি বর্ণনামূলক প্রশ্ন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক ও আবেগ সম্পর্কিত বোর্ড প্রশ্ন ও সমাধান দেয়া হলো।

‌‌‌⚫ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি বলতে কী বোঝ? ব্যাকরণিক শব্দ কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ লেখো। (যশোর ১৬)

অথবা, বাংলা ভাষার শব্দ শ্রেণিকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে? উদাহরণসহ আলোচনা করো। (রাজশাহী ১৭)

ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি:
ব্যাকরণগত অবস্থানের ভিত্তিতে বাংলা ভাষার শব্দসমূহ যে কয়ভাগে ভাগ করা হয়েছে তাকে ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি বলে।

বাক্যের শব্দগুলোকে বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক ও আবেগ-এই আট শ্রেণিতে ভাগ করে দেখানো যায়।

বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা।

সর্বনাম:
বিশেষ্যের বদলে বাক্যে যেসব শব্দ বসে, সেগুলোকে সর্বনাম বলে। যেমন: ‘মুনিরা দাবা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। তার জন্য স্কুলের সবাই গর্বিত।’ এখানে দ্বিতীয় বাক্যের ‘তার’ প্রথম বাক্যের মুনিরাকে বোঝাচ্ছে। তাই ‘তার’ একটি সর্বনাম।

বিশেষণ:
যেসব শব্দ দিয়ে বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

ক্রিয়া:
বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে ক্রিয়া বলে। যেমন: রাজীব খেলছে। বৃষ্টি হয়েছিল।

ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়ার অবস্থা, সময় ইত্যাদি নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন: ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়। মেয়েটি সকালে গান করে।

অনুসর্গ: যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে। যেমন: সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। কোন পর্যন্ত পড়েছ?

যোজক: শব্দ বা বাক্যের অংশকে যুক্ত করে যেসব শব্দ, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন: লাল বা নীল কলমটি আনো। জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

আবেগ: মনের নানা ভাব বা আবগেকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়। যেমন: বাহ! চমৎকার লিখেছ। উফ, আর পারি না!

বিশেষ্য পদ কাকে বলে? উদাহরণসহ বিশেষ্য পদের শ্রেণিবিভাগ করো। (রাজশাহী ২৪, ২৩, ময়মনসিংহ ২৪, কুমিল্লা ২৪, বরিশাল ২৪, ২২, দিনাজপুর ১৭, ১৬, যশোর ১৯, ১৭)*****

বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন- নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য
এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

১. নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম:সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি

সর্বনাম পদ কাকে বলে? সর্বনাম পদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো। (ঢাকা ২২, ১৯, ১৭, চট্টগ্রাম ১৯,১৬, বরিশাল ১৭, ১৬)

সর্বনাম ও এর শ্রেণিবিভাগ:

সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম বলে। যেমন: শিহাব মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে। সে তার বন্ধুদের সহযোগিতা করে। এখানে প্রথম বাক্যের শিমুলের পরিবর্তে দ্বিতীয় বাক্যে ব্যবহৃত ‘সে’ হলো সর্বনাম। বিশেষ্যের মতো সর্বনামের সঙ্গেও বিভক্তি, বচন, বলক ও নির্দেশক বসে।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

বক্তা পক্ষের সর্বনাম:
আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।

শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম:
তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।

অন্য পক্ষের সর্বনাম:
সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে),
মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি)
ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

২. আত্মবাচক সর্বনাম:
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক। ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম:
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন – অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

বিশষণকাকে বলে? উদাহরণসহ বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর। (দিনাজপুর ২৪, ময়মনসিংহ ২২)

বিশেষণ ও এর শ্রেণিবিভাগ :

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ:
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

১. বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ’ বা ‘লাল’ হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

২. গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা’ হলো গুণবাচক বিশেষণ।

৩. অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ এখানে ‘চলন্ত’ ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

৪. ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন এক টাকা, আট দিন এখানে ‘এক’ ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।

৫. পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম’ পূরণবাচক বিশেষণ।

৬. পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে ‘আধা কেজি’ ও ‘অনেক’ পরিমাণবাচক বিশেষণ।

৭. উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে ‘বেলে’ ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

৮. প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে ‘কেমন’ ও ‘কতক্ষণ’ প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

৯. নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন এই দিনে, সেই সময় এখানে ‘এই’ ও ‘সেই’ নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

১০. ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন ‘খুব ভালো খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

১১. বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন: ‘লোকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘোলা’ বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘোলা’ বিধেয় বিশেষণ।

ক্রিয়াপদ কাকে বলে? উদাহরণসহ ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর। (যশোর ২৪, ২২, দিনাজপুর ২৩, ২২, বরিশাল ২৩, যশোর ২৩, রাজশাহী ২২, সিলেট ২২, কুমিল্লা ১৭,ঢাকা ১৬),***

ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে, বাক্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে এবং গঠন বিবেচনায় ক্রিয়াকে নানা ভাগে ভাগ করা যায়।

ক. ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:

১. সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন ভালো করে পড়াশোনা করবে।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা
এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা।

যথা:
ভূত অসমাপিকা:
সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা:
সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা:
গান করলে তার মন ভালো হয়।

খ. বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:

১. অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনো কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন সে বই পড়ছে। এই বাক্যে ‘পড়ছে’ হলো সকর্মক ক্রিয়া। ‘বই’ হলো ‘পড়ছে’ ক্রিয়ার কর্ম।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। ‘কী দিলেন’ প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন’ প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

গ. গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম:

১. সরল ক্রিয়া:
একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে এগুলো সরল ক্রিয়া।

২. প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে ‘করাচ্ছেন’ ও ‘খাওয়ায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।

৩. নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। যেমন বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয়। চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়; বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে-আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না; ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

৪. সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
করা ক্রিয়া যোগে: গান করা,
কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা,
হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া,
দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া,
ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা।

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা ইত্যাদি।

ক্রিয়াবিশেষণ কাকে বলে? ক্রিয়াবিশেষণ কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো।

ক্রিয়াবিশেষণ ও এর প্রকারভেদ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ত্রিয়াবিশেষণ বলে।

ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে ‘-এ’, ‘-তে’ ইত্যাদি বিভক্তি এবং ‘-ভাবে’, ‘-বশত’, ‘-মতো’ ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।

যেমন: ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

১. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনো ত্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।

যেমন- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

২. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।

যেমন- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। যথাসময়ে সে হাজির হয়।

৩. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

যেমন- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

৪. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।

যেমন- সে এখন যাবে না। তিনি বেড়াতে যাননি। এমন কথা আমার জানা নেই।

৫. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’,’না’, ‘তো’
প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।

যেমন-

কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন।
বা: কখনো বা দেখা হবে।
না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো: মরি তো মরব।

গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

ক. একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আছে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে ইত্যাদি।

খ. বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি ইত্যাদি।

অনুসর্গ কাকে বলে? অনুসর্গ কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো।

অনুসর্গ ও এর প্রকারভেদ:

অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

যেমন- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। এই বাক্যে ‘ছাড়া’ একটি অনুসর্গ। কোন পর্যন্ত পড়েছ? এই বাক্যে ‘পর্যন্ত’ একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘র’, ‘কে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।

যেমন- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব। সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।

যেমন-
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন-
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

যোজক কাকে বলে? যোজক কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো। (কু.বো. ১৯, ১৬, সকল বোর্ড ১৮)

যোজক
যে শব্দ একটি বাক্যাংশের সাথে অন্য একটি বাক্যাংশ অথবা বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য একটি শব্দের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায় তাকে যোজক বলে। যেমন: রাজিব কবিতা পড়বে আর রাকিব গাইবে গান। কলশিটা ভালো করে ধর নইলে পানি পড়ে যাবে।

* অর্থ এবং সংযোজনের ধরন ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক পাঁচ প্রকার। যথা-

১. সাধারণ যোজক:
যে যোজক দ্বারা একাধিক শব্দ, বাক্য বা বাক্যাংশকে সংযুক্ত করা হয় তাকে সাধারণ যোজক বলে। যেমন: রানা ঢাকা যাবে এবং চিড়িয়াখানা দেখবে।

২. বিকল্প যোজক:
যে যোজক দ্বারা একাধিক শব্দ, বাক্য বা বাক্যাংশের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করা হয় তাকে বিকল্প যোজক বলে। যেমন: মন ভালো হলে তুমি কাজ করবে নতুবা বসে থাকবে।

৩. বিরোধমূলক যোজক:
যে যোজক দ্বারা দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টি দ্বারা প্রথমটির সংশোধন বা বিরোধ নির্দেশ করা হয় তাকে বিরোধমূলক যোজক বলে। যেমন: তাকে টাকা দিতে চাইলাম কিন্তু নিল না।

৪. কারণবাচক যোজক:
একটি বাক্যের কারণ হিসেবে অপর একটি বাক্যের সংযোগ ঘটানো হয় যে যোজক দ্বারা তাকে কারণবাচক যোজক বলে। যেমন: নাহিদ বাইরে যাবে না কারণ সেখানে এখন কারফিউ চলছে।

৫. সাপেক্ষ যোজক:
পরস্পর নির্ভরশীল যে যোজক একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাকে সাপেক্ষ যোজক বলে।
যেমন: যদি পড়াশোনা কর তবে কৃতকার্য হবে।

আবেগ শব্দের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা কর। (চট্টগ্রাম ২৪, ২২, ঢাকা ২৪, ২৩, কুমিল্লা ২৩, ২২, ময়মনসিংহ ২৩, রাজশাহী ১৯, ১৬, বরিশাল ১৯, সিলেট ১৭)*****

আবেগ ও এর শ্রেণিবিভাগ :

আবেগ:
মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়। যেমন: ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

নিচে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো।

১. সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয়। যেমন: হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে। বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

২. প্রশংসা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন: শাবাশ! এমন খেলাই তো চেয়েছিলাম।
বাহ! চমৎকার লিখেছ।

৩. বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না। জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না।

৪. আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে। যেমন: উহ্, কী বিপদে পড়া গেল।
বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

৫. বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে। যেমন: আরে। তুমি আবার কখন এলে? আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য।

৬. করুণা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশ করে। যেমন:
আহা! বেচারার এত কষ্ট।
হায় হায়! ওর এখন কী হবে।

৭. সম্বোধন আবেগ:
এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন: হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।
ওগো, তোরা জয়ধ্বনি কর।

৮. অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্যে অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন:
দুর! এ কথা কি বলতে আছে?
যাকগে, ওসব কথা থাক

সাপেক্ষ সর্বনাম বলতে কী বোঝো। যেকোনো চারটি বাক্যে এর প্রয়োগ দেখিয়ে তা চিহ্নিত করো। (দিনাজপুর ১৯)

সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন, যত-তত।

যারা-তারা: যারা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে তারা ভালো ফলাফল করে।
যে-সে: যে আগে আসবে সেই পাবে।
যেমন-তেমন: যেমন কর্ম তেমন ফল।
যত-তত: যত চাও তত লও।

স্টার (*) চিহ্নগুলো কমন পড়ার মাত্রা নির্দেশ করছে।

(উপকৃত হলে কিংবা কনফিউশান থাকলে দয়া করে কমেন্ট করবেন। ভুল ধরিয়ে দিতে পারলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ্।)

Leave a Reply

error: Content is protected !!
Scroll to Top